ADS

ব্রেকিং নিউজ: 🌍 আজকের সারা বিশ্বের খবরের শিরোনাম আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ABN Views বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংবাদ এক নজরে— 🔴 ইরানে সামরিক হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র, নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের 🔴 যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত 🔴 মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে 🔴 রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর, একটি যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত 🔴 ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্কে রুশ হামলায় ৩০ বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি 🔴 ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, শীতের আগে বাড়ছে উদ্বেগ 🔴 ইরানের তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৭টি জাহাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা 🔴 মিয়ানমারকে আসিয়ানে পুনঃএকীভূত করার উদ্যোগের কথা জানাল মালয়েশিয়া 🔴 মিয়ানমার থেকে হাজারো নাগরিককে দেশে ফেরাতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা 🔴 ইতালিতে নির্বাচনী সংস্কার আইনে চূড়ান্ত অনুমোদন, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ 🔴 ফ্রান্সে শিক্ষা খাতে বিক্ষোভ অব্যাহত, কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ 🔴 আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের উপযুক্ত সাবেক ফিলিপাইন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে 🔴 কানাডীয় কবি অ্যান কারসন সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেলেন 🔴 দক্ষিণ কোরিয়ায় মিসরের প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় সফর, দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক 🌐 আজকের প্রধান আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক তেলের বাজার, মিয়ানমারের সঙ্গে আসিয়ানের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন পরিবর্তন আজকের বিশ্বসংবাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ABN Views www.abnviews.com
Results for 📰 সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারে ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৫০

September 30, 2026


​নিজস্ব প্রতিবেদক | ABN Views

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা একটি এলাকায় বিমান বাহিনী কর্তৃক অত্যন্ত ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

​মূল বিষয়সমূহ:

  • ​হতহতের সংখ্যা: হামলায় ঘটনাস্থলেই ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন, যাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
  • ​হামলার ধরন: রাখাইন রাজ্যের একটি ব্যস্ত ও জনবহুল বাজারের ওপর অতর্কিত এই বিমান হামলা চালানো হয়, যেখানে অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
  • ​চলমান সংঘাত: যে এলাকায় হামলাটি হয়েছে, তা বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'আকান আর্মি'-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে জান্তা সরকারের সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের তীব্র লড়াই চলছে। তবে সংঘাতের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

​জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

​এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক এবং মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিচ অবিলম্বে এই রক্তপাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন সুরক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

​সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

​মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এই সশস্ত্র সংঘর্ষ সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এর আগেও সীমান্ত এলাকায় মর্টার শেল পড়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। চলমান এই সংঘাতের ফলে নতুন করে সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।




সন্ধ্যার বাংলাদেশ

September 26, 2026

 সন্ধ্যার বাংলাদেশ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রধান সংবাদসমূহ

এবিএন ভিউজ ডেস্ক | www.Abnviews.com

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আজ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আলোচনায় এসেছে। দিনের উল্লেখযোগ্য খবরগুলো এক নজরে—

মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রাতের বেলায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধনে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযোগটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাইরে টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপি কমিশনার জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয় থেকে শতাধিক আটক

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বৈঠক করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।

অভিযানের সময় ভবনটি ঘিরে অবস্থান নেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশকে কঠোর বার্তা

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা/মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গোপনে সহায়তা করা এবং দায়িত্ব পালনে অপেশাদার আচরণের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি

দেশে হাম-রুবেলার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় ধাপে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কর্মসূচিটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির অভিযোগ

সাভার ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিকর বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করলে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি রোডম্যাপ দিয়েছে ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে।

একইসঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে যমজ ভাইসহ তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যু

September 20, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক | www.Abnviews.com

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে যমজ দুই ভাইসহ তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোররা হলো—আশিক, আরেফিন ও আবির। তারা সবাই সোনারগাঁ উপজেলার বাড়ি মজলিস এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে কয়েকজন কিশোর ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে আশিক, আরেফিন ও আবির নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তারা নিখোঁজ হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিখোঁজ তিন কিশোরের মধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তৃতীয় কিশোরের সন্ধানেও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

মেঘনা নদীতে একই ঘটনায় তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর শোক।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় চারজন আটক, তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

September 20, 2026

 

অনলাইন ডেস্ক | www.Abnviews.com

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ১৩ বছর বয়সী ইশাদত শাহারিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তুহিন, আনাস, ফাহিমসহ চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের একটি কিশোর অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

নিখোঁজ হওয়ার পর শুরু হয় খোঁজ

পারিবারিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অপ্রতিমকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পেছনের সারন্দা এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে দেখা যায়

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে অপ্রতিম ও তুহিনকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরে তাদের সারন্দা এলাকার দিকে যেতে দেখা যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর আনাস ও ফাহিমকেও ওই এলাকার দিকে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আইফোন ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্তে

ঘটনার সঙ্গে একটি আইফোনের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আলোচিত আইফোনটি উদ্ধার করেছে।

তদন্তে মাদক, জুয়া কিংবা আর্থিক লেনদেনের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মোটরবাইক কেনা কিংবা বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। তবে এর কোনোটি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

তদন্ত অব্যাহত

নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে আটক সন্দেহভাজনদের পূর্বপরিচয়, ঘটনার দিন তাদের গতিবিধি এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

নোট: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য আপনার দেওয়া ভিডিওর বর্ণনা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। তদন্তাধীন মামলায় আটক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

রাজধানীর ৭ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ও উত্তেজনা

September 18, 2026

 অনলাইন ডেস্ক | ABN Views

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যাত্রাবাড়ী, মগবাজার ও বাবুবাজারসহ অন্তত সাতটি স্থানে এসব বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাপ্ত ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

একাধিক স্থানে একই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত, কী ধরনের ককটেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানীর একাধিক স্থানে একই সময়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: DBC News-এর ভিডিও প্রতিবেদন

প্রকাশ: ABN Views | www.Abnviews.com

হাটহাজারী ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক অনুশীলনের সময় বিস্ফোরণ: ২ সেনাসদস্য নিহত, কর্মকর্তা গুরুতর আহত

September 09, 2026

অনলাইন ডেস্ক:(ABNVIEWS) 

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর নিয়মিত ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে আকস্মিক এক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

​ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

​আইএসপিআর জানায়, অনুশীলনের অংশ হিসেবে ট্যাংক থেকে গোলা বর্ষণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই সেনাসদস্য মর্মান্তিক প্রাণহানির শিকার হন। আহত সেনা কর্মকর্তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত উদ্ধারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।

​এ দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তা অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

মৃত্যুর স্রোত থেকে ১৬৪৩ শিশুর প্রাণ রক্ষা: নেপালের এক বীর প্রধান শিক্ষকের অলৌকিক উপাখ্যান

September 01, 2026

অনলাইন ডেস্ক (ABN Views): নেপালের ত্রিশুলি উপত্যকার ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সাধারণ আর দশটা দিনের মতোই ক্লাসে বসে পড়াশোনা করছিল শিক্ষার্থীরা। কেউ শিক্ষককে মনোযোগ দিয়ে শুনছিল, আবার কেউ ছুটির ঘণ্টার অপেক্ষা করছিল। কিন্তু কেউই জানত না, কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা পিষে দিয়ে যাবে তাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠকে।

​ঠিক সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি-র হাতে সময় ছিল মাত্র কয়েক মিনিট। তিনি যদি একটু দ্বিধা করতেন বা স্কুল ভবনটিকে নিরাপদ মনে করে ভেতরে অবস্থান করতেন, তবে ১,৬৪৩ জন শিশুর প্রাণ কেড়ে নিত সেই ভয়াল স্রোত। কিন্তু নিজের প্রখর উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা দিয়ে তিনি এক অলৌকিক ইতিহাস গড়ে তুলেছেন।

​যেভাবে শুরু হয়েছিল সেই আতঙ্কজনক মুহূর্ত

​গত ২৬ আগস্ট সকাল ৯টা ২০ মিনিট। প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির ফোনে এক বন্ধুর কল আসে। নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে ওঠার খবর দিয়ে তাকে দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়। প্রথমে স্কুলটি তিনতলা কংক্রিটের ভবন এবং নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় সেটিকে নিরাপদ মনে করেছিলেন দাওয়াদি।

​কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক স্থানীয় অভিভাবক এসে জানান, নদীর পানি ভয়ংকর গতিতে বাড়ছে। পরিস্থিতি যে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক—তা বুঝতে আর এক মুহূর্তও নষ্ট করেননি তিনি।

​একটি জরুরি ঘণ্টা ও ১৬৪৩টি প্রাণের মুক্তি

​বিপদ উপলব্ধি করার সাথে সাথে তিনি স্কুলের জরুরি ঘণ্টা বাজিয়ে দেন। সমস্ত শিক্ষকদের দ্রুত নির্দেশ দেন সব শ্রেণিকক্ষ খালি করে শিশুদের নিরাপদে বের করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও শিক্ষকরা দ্রুত সবাইকে পরিচালনা করে নিকটস্থ একটি উঁচু স্থানের ‘বোধি বৃক্ষ’-এর নিচে নিয়ে আশ্রয় দেন।

​শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর ঠিক কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাহাড়ি ঢলের প্রচণ্ড স্রোত এসে আছড়ে পড়ে স্কুলে। মুহূর্তের মধ্যেই ভেসে যায় তিনতলা শক্তপোক্ত ভবনসহ আশেপাশের বহু স্থাপনা। প্রধান শিক্ষকের দ্রুততম ও সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের ১,৬৪৩ জন শিশুর প্রতিটি শিশুই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়।

​স্বস্তির মাঝেও সহকর্মীদের হারানোর করুণ ট্র্যাজেডি

​১,৬৪৩ জন শিশুর প্রাণ বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় ছড়িয়ে আছে এক করুণ সুর। স্কুলের দুইজন প্রিয় সদস্যকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি:

  • ​সন্তোষ পাড়িয়া (৩২): সমাজবিজ্ঞানের এই তরুণ শিক্ষক নাস্তা করার জন্য নদীর পাশের নিজ বাসায় গিয়েছিলেন, সেখান থেকেই পাহাড়ি পানির তোড়ে ভেসে যান তিনি।
  • ​সুলতান লামা: স্কুলের এই দায়িত্বশীল পরিচ্ছন্নতাকর্মী ক্লাসরুমের দরজাপালা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে আর বের হতে পারেননি, সেখানেই প্রাণ হারান।

​স্থানীয় মানুষ এবং পুরো দেশ প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদিকে বীর ও নায়কের মর্যাদায় বসালেও তিনি বিনীতভাবে বলেন, "আমি আর কী-ই বা করতে পারতাম? আমি কোনো নায়ক হতে চাইনি, কেবল একজন শিক্ষক হিসেবে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করেছি।"

​এত বড় বিপর্যয় কীভাবে ঘটল?

​বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, তিব্বত সীমান্তের কাছে লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গের বিশাল একটি অংশের বরফ ও পাথর (প্রায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে) ধসে পড়ে 'লেনদেখোলা' নদীর গিরিখাতে। হিমবাহ ধসের ফলে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ পানি ও পাথরের মিশ্রণ নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে এই ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যা বা 'ফ্ল্যাশ ফ্লাড' (Flash Flood)-এর সৃষ্টি করে।

​একটি দেশের দুর্যোগ মোকাবিলায় সামান্য একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যে কত বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে—নেপালের এই শিক্ষকের জরুরি ঘণ্টা বাজানোর সিদ্ধান্তটি ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

শূন্য খরচে সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ: আবেদন প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত তথ্য

August 29, 2026


​বিদেশে গিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন অনেক বাংলাদেশির। কিন্তু এই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মোটা অঙ্কের টাকা ও দালালদের দৌরাত্ম্য। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় একটি সুখবর। সম্পূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়ায় ও বিনামূল্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য।

​প্রথম ধাপে ১০,০০০ কর্মীর নিয়োগ

​মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা দীর্ঘদিনের। বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১০,০০০ জন কর্মী নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কার্যক্রমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘জিরো কস্ট’ (Zero Cost), অর্থাৎ কর্মীদের কোনো টাকা খরচ করতে হবে না।

​বোয়েসলের (BOESL) মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ

​পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত রাখতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসল’ (BOESL)-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠাবে সরকার। এর ফলে দালালদের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং আগ্রহী প্রার্থীরা সরাসরি সরকারি ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন।

​প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা

​অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য আগে থেকেই যে কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে পারেন:

  • ​বৈধ পাসপোর্ট
  • ​শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
  • ​কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সনদ
  • ​স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ (Medical Fitness)

​প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা

​মালয়েশিয়া গিয়ে কর্মীরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে:

  • ​নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
  • ​বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
  • ​যেকোনো জরুরি সাহায্য ও অভিযোগ জানাতে চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং সেল।

​⚠️ বিশেষ সতর্কবার্তা: দালালদের টাকা দেবেন না

​১. সরকারি প্রাক-বিজ্ঞপ্তি বা চূড়ান্ত নোটিশ প্রকাশের আগে কাউকে কোনো টাকা দেবেন না।

২. বোয়েসল বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কেউ বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিলে সেটি প্রতারণা হতে পারে।

৩. শুধু সরকারি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

​উপসংহার:

স্বপ্নের মালয়েশিয়া যাত্রায় প্রতারণা এড়াতে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন। দালালদের হাতে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক নিয়মে ও সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিরাপদে বিদেশ যান।

সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে সামরিক চাপ, ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় নতুন উদ্বেগ

August 18, 2026

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ আগস্ট ২০২৬



মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব নতুন করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। ইরান ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে সৌদি আরবের ওপর সামরিক চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও বেড়েছে। সৌদি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান-সমর্থিত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কার কারণে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে ইরাকে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছিল। রিয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টার পর ওই অভিযান চালানো হয়।

লোহিত সাগরেও বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর। হুথিদের সামরিক তৎপরতা শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথেও হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

১৭ আগস্ট সৌদি সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এই দাবির ফলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?

সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, ইয়েমেনে নতুন সংঘাত এবং লোহিত সাগরে সামুদ্রিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শুধু সৌদি আরব বা ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।


শরীয়তপুরে ৭ লাখ টাকাসহ পোলিং এজেন্ট আটক: যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান

February 11, 2026

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

    Ai image 


    ​নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। আজ জেলাটিতে যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ একজন পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ সাত লক্ষাধিক টাকা।

    ​■ অভিযানের বিস্তারিত

    ​গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে আটককৃত ব্যক্তির তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ টাকার নোটের একাধিক বড় বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বা অবৈধ লেনদেনের উদ্দেশ্যে এই অর্থ আনা হয়েছিল।

    ​■ মূল তথ্যসমূহ একনজরে:

    • ​জব্দকৃত অর্থ: প্রায় ৭,০০,০০০+ নগদ টাকা।
    • ​আটক ব্যক্তি: একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বরত পোলিং এজেন্ট।
    • ​যৌথ বাহিনী: অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম।
    • ​বর্তমান অবস্থা: আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জব্দকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে।
    • ​"নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অর্থের প্রভাব রোধে আমরা 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।"

      — দায়িত্বরত কর্মকর্তা


      ​■ প্রশাসনের কড়া বার্তা

      ​নির্বাচনী সহিংসতা ও টাকার খেলা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

      ​

যাত্রাবাড়ীতে সেনাবাহিনীর ঝটিকা অভিযান: আমেরিকান পিস্তল ও বিপুল মাদক উদ্ধার

February 06, 2026

​ঢাকা | শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ai image 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, নগদ অর্থ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। শুক্রবার একাত্তর টিভির এক প্রতিবেদনে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের চিত্র উঠে আসে।

​অভিযানের মূল ঘটনা

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বহুতল ভবনে এই অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং সন্দেহভাজন কক্ষে তল্লাশি চালান। অভিযানে আসবাবপত্রের আড়ালে এবং সিলিংয়ের ভেতর থেকে লুকানো অবস্থায় অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়।

​উদ্ধারকৃত অবৈধ সরঞ্জামসমূহ:

​তল্লাশি শেষে সেনাবাহিনী নিম্নলিখিত মালামালগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়:

  • ​অত্যাধুনিক অস্ত্র: একটি ইউএসএ (USA) তৈরি ৯ এমএম পিস্তল।
  • ​মাদকদ্রব্য: অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক (প্রাথমিকভাবে হিরোইন হিসেবে চিহ্নিত) উদ্ধার করা হয়।
  • ​নগদ অর্থ: ব্যাগভর্তি বিপুল পরিমাণ দেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।
  • ​ইলেকট্রনিক ডিভাইস: বেশ কিছু মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ড সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

​যেভাবে উদ্ধার হলো অস্ত্র

​ বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করার এক পর্যায়ে একটি ব্যাগের ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রটি পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, আলামিন নামক এক ব্যক্তির বাসায় এই অস্ত্রটি রাখা হয়েছিল। এছাড়া ঘরের ফলস সিলিং খুলে এবং টিভির পেছনেও তল্লাশি চালানো হয়।

​বর্তমান পরিস্থিতি

​আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সেনাবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। জব্দকৃত মালামাল এবং আটককৃতদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমান্তের ওপার থেকে অস্থিরতার ব্লু-প্রিন্ট: ‘র’-এর ১০৩ সদস্য নিয়ে বাংলাদেশে উচ্চ সতর্কতা

February 05, 2026

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

Ai image 
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে সীমান্তের ওপার থেকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ছক আঁকা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর প্রত্যক্ষ মদদে ১০৩ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারা দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

​ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ ষড়যন্ত্র

​প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় অংশ পরিচালিত হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বিশেষ ‘ব্রেইনওয়াশ’ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

  • ​গুজব ছড়ানো: ইউটিউব ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
  • ​টার্গেট কিলিং ও অস্থিরতা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে টার্গেট করে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে এই চক্রের।
  • ​প্রযুক্তিগত প্রোপাগান্ডা: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা থেকে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

​নিরাপত্তা বাহিনীর অভেদ্য দেয়াল: প্রযুক্তিগত নজরদারি

​ষড়যন্ত্রের এই ব্লু-প্রিন্ট নস্যাৎ করতে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  1. ​স্মার্ট মনিটরিং: সীমান্তে বিজিবি (BGB) এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
  2. ​সাইবার ওয়াচ: এনটিএমসি (NTMC) এবং পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো প্রতিটি ডিজিটাল মুভমেন্ট ট্র্যাক করছে।
  3. ​সমন্বিত পদক্ষেপ: ডিএমপি কমিশনারসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটি ‘আনহোলি অ্যালায়েন্স’ বা অশুভ আঁতাত রুখতে কাজ করছেন।

​বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সতর্কতা

​নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতেই বাইরের শক্তিগুলো এমন নীল নকশা তৈরি করেছে। ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’ মোকাবিলায় কেবল নিরাপত্তা বাহিনী নয়, সাধারণ জনগণের সচেতনতাও অপরিহার্য।

​উপসংহার:

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো প্রকার আপস না করার ঘোষণা দিয়েছে। যেকোনো প্রকার উসকানি বা সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরে এলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

​সূত্র: ডেইলি আমার দেশ। 

তারিখ: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬


ভিডিও কলে স্বামীকে রেখে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা: এক নীরব আর্তনাদের গল্প

February 02, 2026

​নিজস্ব প্রতিবেদক | শরীয়তপুর

Ai image 
প্রবাস মানেই কেবল সচ্ছলতা নয়, প্রবাস মানে অনেক ক্ষেত্রে একরাশ শূন্যতা আর দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও সেই রূঢ় বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এলো। পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে নাদিয়া আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট

​বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভুমখাড়া ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটে। প্রবাসী স্বামী সালাম ফকিরের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন নাদিয়া। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও কলে কথা বলার সময় নাদিয়া তার একাকিত্ব, শাশুড়ির অবহেলা এবং সংসার সামলানোর যাতনা নিয়ে স্বামীর কাছে অভিযোগ করছিলেন।

​যেভাবে ঘটল সেই ট্র্যাজেডি

​কথোপকথনের এক পর্যায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নাদিয়া চরম সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী ওপাশ থেকে বারবার চিৎকার করে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও নাদিয়া কারো কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। স্বামীকে লাইভ ভিডিওতে রেখেই তিনি বাথরুমের গ্রিলের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মঘাতী হন। ওপাশে থাকা অসহায় স্বামীর পক্ষে চোখের সামনে স্ত্রীর মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

​আইনি পদক্ষেপ ও উদ্ধার

​পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিক টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

​সামাজিক বার্তা

​এই ট্র্যাজেডিটি প্রবাসী পরিবারগুলোর মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল টাকা পাঠানোই প্রবাসীর দায়িত্ব নয়, দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থা এবং একাকিত্বের খবর রাখাও সমান জরুরি।

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতার মৃত্যু

January 29, 2026


​নিজস্ব প্রতিবেদক | শেরপুর ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬



​শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে আসন গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

​ঘটনার সূত্রপাত

​গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে একটি 'নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ' অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।

​সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতি

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সভাস্থলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এতে অনুষ্ঠানস্থলের কয়েকশ চেয়ার এবং বাইরে থাকা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

​নিহতের পরিচয় ও মৃত্যু

​নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এবং ফাতেপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। সংঘর্ষে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে দ্রুত ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​বর্তমান পরিস্থিতি

​এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ৭ মাসে ৬ খুন: আস্তানা ছিল থানার পাশেই!

January 19, 2026


​সাভার প্রতিনিধি | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬



​সাভার মডেল থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে গত সাত মাস ধরে চলছিল এক নারকীয় উৎসব। ভবঘুরের ছদ্মবেশ ধারণ করে পুলিশের নাকের ডগায় বসেই একে একে ৬টি খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে এক দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার।

​যেভাবে সামনে এলো সত্য

​গত ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া দুটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে আসে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। স্থানীয়দের কাছে 'ভবঘুরে' হিসেবে পরিচিত মশিউর রহমান খান সম্রাট (ওরফে সাইকো সম্রাট) দিনের বেলা ব্যাংক কলোনি বা লালটেক এলাকায় বিড়বিড় করে কথা বলে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু রাতের আঁধারে সে হয়ে উঠত এক খুনি।

​সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল খুনি

​লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানে দেখা যায়, সম্রাট কাঁধে করে ভারী কিছু (মরদেহ) বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। এই শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

​জনমনে আতঙ্ক ও প্রশ্ন

​সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, যেখানে অপরাধগুলো ঘটেছে তার পাশেই রয়েছে:

  • ​সাভার মডেল থানা (কয়েক কদম দূরত্বে)
  • ​সেনাবাহিনীর টহল জোন
  • ​সাভার প্রেস ক্লাব

​এত প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যেও কীভাবে সাত মাসে ছয়টি খুনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

​পুলিশের পদক্ষেপ

​সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী জানিয়েছেন, আটককৃত সম্রাট প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি বর্তমানে অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে।

​সংক্ষেপে মূল তথ্য:

  • ​আটককৃত ব্যক্তি: মশিউর রহমান খান সম্রাট (সাইকো সম্রাট)।
  • ​স্থান: পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার, সাভার।
  • ​অপরাধ: গত ৭ মাসে ৬টি হত্যাকাণ্ড।
  • ​চিহ্নিতকরণ: সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে।

​শোক সংবাদ: খাগকান্দার কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা আব্দুস সালাম জিহাদী আর নেই

January 19, 2026


​[নিজস্ব প্রতিবেদক/খাগকান্দা]



​এক নক্ষত্রের পতন! লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতাকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে মহান রব্বুল আলামিনের সান্নিধ্যে চলে গেলেন বাংলার প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক ও মুফাসসিরে কুরআন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুস সালাম জিহাদী সাহেব (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

​দ্বীনের পথে এক নিবেদিত প্রাণ

​খাগকান্দার কৃতি সন্তান মাওলানা আব্দুস সালাম জিহাদী সাহেব আজীবন পবিত্র কুরআনের খেদমতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তিপূর্ণ আলোচনা এবং সুমধুর কণ্ঠে কুরআনের তাফসীর শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন। তিনি শুধু একজন বক্তা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক ও এক যোগ্য দ্বীনি রাহবার।

​জানাজায় মানুষের ঢল

​মরহুমের জানাজায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করেছে তিনি মানুষের কতটা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। জানাজার ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যেখানে প্রিয় এই আলেমকে শেষ বিদায় জানাতে আলেম-ওলামা, ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

​অপূরণীয় শূন্যতা

​মাওলানা আব্দুস সালাম জিহাদী সাহেবের প্রয়াণে খাগকান্দাসহ পুরো দেশ একজন যোগ্য অভিভাবককে হারালো। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর পরিবার ও ভক্তকূলের দাবি, ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

​দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা

​মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও দেশবাসীর কাছে খাস দোয়ার দরখাস্ত করা হয়েছে। তারা বলেন, "আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এই দ্বীনি রাহবারের আজীবনের খেদমত কবুল করেন এবং তাঁর কবরকে নূরে নুরান্বিত করে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। আমিন।"

​আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মরহুমকে ক্ষমা ও রহমতের চাদরে আবৃত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দান করেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: এলাকায় আতঙ্ক

January 17, 2026


​নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬



​নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গভীর রাতে একটি বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের পিস্তল ঠেকিয়ে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

​সিসি ক্যামেরায় দেখা গেল ডাকাতদের উপস্থিতি

​ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বাড়িতে হানা দেয়। বাড়ির বড় ছেলে সিসিটিভি ফুটেজে বাইরে ডাকাতদের ঘোরাফেরা করতে দেখে সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ডাকাতরা দরজার লক ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

​পিস্তল ঠেকিয়ে লুটপাট

​ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করেই পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। বাধা দিতে গেলে তারা আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দেয় এবং সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। ভুক্তভোগী গৃহকর্তা বলেন, "ওরা দরজার লক ভেঙে সরাসরি ভেতরে ঢুকে পড়ে। আমার সামনে পিস্তল ধরে রাখে এবং পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আলমারি ও ড্রয়ার থেকে সর্বস্ব লুটে নেয়।"

​ককটেল ফাটিয়ে পলায়ন

​ডাকাতি শেষে পালানোর সময় ডাকাত দলটি বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন ভয়ে কাছে আসার সাহস পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ডাকাতদের হাতে পিস্তল ছাড়াও বড় বড় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল।

​পুলিশি তদন্ত ও আলামত জব্দ

​খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডাকাতরা ফেলে যাওয়া একটি বড় ‘দা’ আলামত হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।


​মেধা না কি ধর্ম? কাশ্মীরে মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় মেডিকেল কলেজ বন্ধের বিতর্ক

January 17, 2026


​ভারতের কাশ্মীরে শিক্ষা, ধর্ম এবং রাজনীতির এক নজিরবিহীন সংঘাতের খবর সামনে এসেছে। রিয়াসি (Reasi) জেলার পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণুদেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউট (SMVDMI) হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ৫০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

​বিতর্কের মূলে কী?

​প্রতিষ্ঠানটি একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের অধীনে এবং বৈষ্ণুদেবী মন্দিরের ভক্তদের দানে পরিচালিত। তবে ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, এখানে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ নিট (NEET) পরীক্ষার মাধ্যমে। প্রথম ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই মুসলিম, ৭ জন হিন্দু এবং ১ জন শিখ শিক্ষার্থী ভর্তি হন।

​এই তালিকায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখে স্থানীয় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হন। তাদের দাবি ছিল, হিন্দু ট্রাস্টের টাকায় চলা এই প্রতিষ্ঠানে মুসলিমদের পড়ার অধিকার নেই।

​প্রশাসনের যুক্তি বনাম শিক্ষার্থীদের দাবি

​জাতীয় চিকিৎসা কমিশন (NMC) গত ৬ জানুয়ারি কলেজটির স্বীকৃতি বাতিল করে। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া কারণগুলো হলো:

  • ​শিক্ষক এবং কর্মচারীর অভাব।
  • ​পর্যাপ্ত শয্যা ও রোগীর অনুপস্থিতি।
  • ​লাইব্রেরি ও অপারেশন থিয়েটারের মানদণ্ড পূরণ না হওয়া।

​শিক্ষার্থীদের পাল্টা অভিযোগ: ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, কলেজের মান অনেক সরকারি কলেজের চেয়েও ভালো ছিল। যেখানে অন্যান্য কলেজে একটি ব্যাচের জন্য মাত্র একটি মৃতদেহ (Cadaver) থাকে, সেখানে এই কলেজে ছিল চারটি। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, তাদের 'যোগ্যতাকে ধর্মের রঙ' দিয়ে বিচার করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

​রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ

​কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজে সমন্বয় (Shift) করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করল। যদি যোগ্যতার চেয়ে ধর্মীয় পরিচয় বড় হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা জাতীয় সংহতি এবং মেধার অবমূল্যায়ন ঘটাবে।

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে গাইবান্ধার এমপি প্রার্থী আজিজার রহমান

January 16, 2026


​নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা



​গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজার রহমান অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন। প্রতারক চক্রের দেয়া ডিম খেয়ে জ্ঞান হারানোর পর তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা হারিয়েছেন।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট:

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে একটি বাসে রওনা হন আজিজার রহমান। বাসে ভ্রমণকালীন অবস্থায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাকে ডিম খাওয়ায়। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সুযোগ বুঝে প্রতারক চক্রটি তার সর্বস্ব লুটে নিয়ে রংপুরের মডার্ন মোড় এলাকায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

​উদ্ধার ও পুলিশি তৎপরতা:

সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাজহাট থানা পুলিশ মডার্ন মোড় থেকে তাকে উদ্ধার করে। তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আজিজার রহমান সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন এবং সেই কাজ শেষ করেই তিনি বাড়ি ফিরছিলেন।

​ভুক্তভোগীর ভাষ্য:

উদ্ধারের পর আজিজার রহমান জানান, "মডার্ন মোড় এলাকা থেকে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বাসের ভেতরে তারা আমাকে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে দিয়েছিল।" তিনি আরও জানান, তার কাছে খুব বেশি টাকা না থাকলেও প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

​এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

​ঘোষণার আগেই অবরোধ: নিউমার্কেটে স্থবির জনজীবন, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

January 15, 2026


​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 

 


রাজধানীর নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনকারীদের আকস্মিক অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পূর্বঘোষিত সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগেই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

​সময়ের আগেই বন্ধ রাস্তা

​আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দুপুর ১টায় অবরোধের কথা জানানো হলেও, বাস্তবে দুপুর ১২:৩০টার পর থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী এক বাস চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ওনারা বলেছিলেন ১টা থেকে রাস্তা বন্ধ করবেন, কিন্তু ১২:৩০ বাজতেই আমাদের আটকে দিয়েছেন। এই আধা ঘণ্টা সময় পেলে আমরা অন্তত গাবতলী পার হয়ে যেতে পারতাম।"

​বিকল্প পথের অভাব ও বৈষম্যের অভিযোগ

​অবরোধে আটকে পড়া সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাড়িগুলো পার করে দেওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। নীলক্ষেত বা ঢাকা কলেজের সামনের ইউটার্নগুলো ব্যবহারের সুযোগ না দিয়েই মাঝপথে গাড়ি আটকে দেওয়ায় কোনো বিকল্প পথে যাওয়ার উপায় ছিল না।

​আটকে পড়া এক অভিভাবক জানান, স্কুলে বাচ্চা আনতে যাওয়ার পথে তিনি আটকা পড়েছেন। দীর্ঘক্ষণ অনুরোধ করলেও আন্দোলনকারীরা তাকে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।

​আন্দোলনকারীদের অবস্থান

​রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সোজাসাপ্টা জানানো হয়— কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। দায়িত্বরত এক আন্দোলনকারী বলেন, "সবাইকে যদি ছেড়ে দিই, তাহলে আমাদের কর্মসূচির গুরুত্ব থাকল কই? ছাড়ার কোনো অপশন নেই, প্রশাসনের সাথে কথা বলেন।"

​জনসাধারণের ক্ষোভ

​সাধারণ মানুষ এই অব্যবস্থাপনাকে 'সুস্থ আন্দোলন' হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হওয়াটা দুঃখজনক। বিশেষ করে বৃহস্পতিবারের মতো ব্যস্ত দিনে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে এভাবে জনজীবন স্থবির করে দেওয়া সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি করছে।

​একনজরে মূল পয়েন্টগুলো:

  • ​১টার বদলে ১২:৩০টা থেকে অবরোধ শুরু।
  • ​বিকল্প রাস্তা না থাকায় কয়েকশ যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা।
  • ​স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি।
  • ​ঘোষিত সময়ের আগে রাস্তা বন্ধ করা নিয়ে চালকদের তীব্র অসন্তোষ।

Advertisement

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে প্রদর্শন করুন (৭২৮x৯০)

Powered by Blogger.